বাংলাদেশ অনলাইন নিউজ পোর্টাল এসোসিয়েশন এ তালিকাভুক্ত আইডি নং – ৪২৯ ............................ দেশ ও জাতীর কল্যাণে সংবাদ ও সাংবাদিকতা!! আপনি কি সাংবাদিক হয়ে দেশ ও জাতীর কল্যাণে কাজ করতে চান তা হলে যোগাযোগ করুন ০১৭২৬৩০৪০৯২
প্রচ্ছদ

ইসলামপুরে প্রভাবশালীদের দখলে চলছে অবৈধ বালু উত্তোলন

 নিউজ ডেক্স:জামালপুরের ইসলামপুরে যমুনা ও ব্রহ্মপুত্র নদ-নদীর বিভিন্ন পয়েন্টে চলছে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন। আর বড় ধরনের কোনো শাস্তিমূলক ব্যবস্থা না নেওয়ায় প্রভাবশালীদের ছত্রছায়ায় গত পাঁচ বছরেরও বেশি সময় ধরে প্রতিনিয়ত বেড়ে চলেছে অবৈধ বালু উত্তোলন। এ নিয়ে স্থানীয়রা কয়েক ধফায় অভিযোগ করলেও বালু উত্তোলন বন্ধ হয়নি।

জানা যায়,পৌর শহরের পাইলিংঘাট এলাকায় ব্রহ্মপুত্র নদের উপরে সদ্য নির্মিত বীর উত্তম খালেদ মোশারফ নামে ব্রীজ এর নীচ থেকে বালুদস্যুচক্র দীর্ঘদিন ধরে ভ্যাকুপমেশিনের সাহায্যে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করছে। এতে হুমকির মুখে পড়েছে ১০১কোটি টাকার ব্যয়ে সদ্যনির্মিত এ ব্রীজটি।

অন্যদিকে চিনাডুলী ও বেলাগাছা ইউনিয়নের গুঠাইল বাজার এলাকা যমুনা নদী থেকেও বালুদস্যুরা দীর্ঘদিন ধরে ড্রেজার/বলগেট দিয়ে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করছে। এতে ৪৫০ কোটি টাকা ব্যয়ে সদ্যনির্মিত যমুনা বামতীর সংরণ প্রকল্পটি হুমকির মুখে রয়েছে বলে এলাকাবাসী জানিয়েছে।

পৌর শহরের পাইলিংঘাট এলাকায় সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ১০১কোটি টাকার ব্যায়ে সদ্য নির্মিত ব্রীজ এর নিচ থেকে দু’টি ভ্যাকুপ মেশিনের সাহায্যে ১০ থেকে ১৫টি ট্রাক্টরের লম্বা সিরিয়ালে একের পর এক ট্রাক্টরে বালু ভর্তি করা হচ্ছে। আর এ বালু ভর্তি ট্রাক্টর গুলো বিভিন্ন সড়কে বেপরোয়া গতিতে বালু উড়িয়ে গন্তব্যে যাচ্ছে। এতে পথচারিদের চলাচলের মারাত্মক বিঘœ ঘটছে।

পাইলিং ঘাট এলাকার আছাদ,মিস্টার,আমজাদ আলী,সোলায়মান,আসলাম হোসেনসহ আরো অনেকেই জানান,সরকারদলীয় কিছু অসাধু ব্যক্তির কারণে এসব অবৈধ কাজ বন্ধ হচ্ছে না। “ইএনও স্যার চাইলে একদিনেই এসব অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধ করতে পারেন”। তারা আরো বলেন,মাঝে মাঝে বালু উত্তোলন এলাকাগুলোতে পুলিশ পরিদর্শনে গেলেও বালুদস্যুদের ধরছে না। প্রশাসন থেকে শুরু করে সবাই সবার সঙ্গে সমঝোতা করেই ব্যবসা করছে অসাধু চক্র গুলো।

মোটর সাইকেল চালক জনৈক জামাল মিয়া বলেন,“অল্পের জন্য আমি বেঁচে গেলাম। বালু বাহী ট্রাক থেকে উড়ে যাওয়া বালু চোখে মুখে লাগায় কিছু দেখতে পাচ্ছিলাম না”।

স্থানীয়দের অভিযোগ,বীর হাতিজা গ্রামের আঃ জলিলের ছেলে শাহিন মিয়া ও উদে,মাসুদ মিয়া, লেবু মিয়া গং ও অপর সাইটে উত্তর দড়িয়াবাদ গ্রামের হেমপাল’র ছেলে সুজন পাল গংরা বর্ষা মৌসুম চলে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ব্রহ্মপুত্র নদের জেগে ওঠা বালুর চর থেকে সরকারি অনুমোদন ছাড়াই চার থেকে পাঁচ বছর ধরে বালু উত্তোলন করে আসছে।ফলে একদিকে যেমন হুমকির মুখে পড়ছে সদ্য নির্মিত এ ব্রীজটি অন্যদিকে রাজস্ব থেকেও বঞ্চিত হচ্ছে সরকার।

অন্যদিকে ইসলামপুরে যমুনার গুঠাইল হার্ডপয়েন্টেও অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে। ফলে আগামী বর্ষা মৌসুমে গুঠাইল বাজার পুনরায় হুমকির মুখে পড়বে বলে জানায় এলাকাবাসী।

জানা যায়, চিনাডুলী ইউনিয়নের সাবেক ইউপি সদস্য নিদানু ও তার ছেলে আজাদসহ একটি বালুদস্যুচক্র সম্প্রতি যমুনার পানি কমে যাওয়ায় গুঠাইল হার্ডপয়েন্টের পাশ থেকে ড্রেজারে অবৈধভাবে যমুনা নদীতে থেকে বালু উত্তোলন করছে।

জানা গেছে, চক্রগুলো সরকারি কোনো নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে অনুমতি ছাড়াই অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করে বিক্রি করছে। এতে হুমকির মুখে পড়ছে ঐতিহ্যবাহী গুঠাইল বাজার ও সরকারি-বেসরকারি গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা। এ বিষয়ে রহস্যজনক কারণে স্থানীয় ভূমি অফিসসহ প্রশাসন দেখেও না দেখার ভান করছে।

এ ব্যাপারে বালুদস্যু শাহিন মিয়া, সুজন পাল ও আজাদের সাথে যোগাযোগ করা হলে তারা সবাই একই কথা বলেন,“যা করার করেন গিয়ে,লেখালেখি করে কিছুই হবে না। তার চেয়ে আপনার বিকাশ নাম্বার দেন।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে ইসলামপুর উপজেলার নির্বাহী অফিসার মোহাম্মদ মিজানুর রহমান জানান, “বালু উত্তোলন কারীদের বিরুদ্ধে খুব শীঘ্রই মোবাইল কোর্ট পরিচালনার মাধ্যমে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেব”।






Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked as *

*