বাংলাদেশ অনলাইন নিউজ পোর্টাল এসোসিয়েশন এ তালিকাভুক্ত আইডি নং – ৪২৯ ............................ দেশ ও জাতীর কল্যাণে সংবাদ ও সাংবাদিকতা!! আপনি কি সাংবাদিক হয়ে দেশ ও জাতীর কল্যাণে কাজ করতে চান তা হলে যোগাযোগ করুন ০১৭২৬৩০৪০৯২
প্রচ্ছদ

শ্রীবরদীর বোরো চাষাবাদে নেমেছে কৃষকরা

প্রচন্ড শীত আর ঘন কুয়াশা উপেক্ষা করে এবার বোরো চাষাবাদ নেমেছে শেরপুরের শ্রীবরদী উপজেলার কৃষকেরা। সময় মতো সার বীজ আর সেচ সরবরাহে বদলে যাচ্ছে ক্ষেতের  দৃশ্যপট। দিগন্ত মাঠে চাষাবাদে ব্যস্ত কৃষকরা। কৃষকদের মতে, আবহাওয়া অনুকুলে থাকলে বোরো চাষাবাদে ভাল ফলন হবে।

এমনটাই প্রত্যাশা করছেন কৃষক ও উপজেলা কৃষি অফিস। সম্প্রতি এ ব্যাপারে তথ্যানুসন্ধানে গেলে কৃষক ও কৃষি কর্মকর্তাদের সাথে কথা বলে ওঠে আসে এমন তথ্য।

কৃষি অফিসের তথ্য মতে, ২০১৮-২০১৯ অর্থ বছরে রবি মৌসুমে বোরো আবাদের লক্ষ্যমাত্রা প্রায় ১৮ হাজার হেক্টর জমি। এতে বিআর ২৮, বিআর ৪৯, ধানীগোল্ডসহ বিভিন্ন হাইব্রীড জাতের ধান চাষ হচ্ছে। এছাড়াও সরিষার, গম ও শীতকালীন সবজি চাষে প্রায় ২২শ হেক্টর জমি ল্যমাত্রা নির্ধারন করা হয়েছে। এছাড়াও রাজস্ব খাতের আওতায় রয়েছে ৮০টি প্রদর্শনী।

ধান, পাট, গম বীজ উৎপাদন প্রকল্পের আওতায় প্রদর্শনী মাঠ রয়েছে শতাধিক। বোরো বীজ উৎপাদন প্রকল্প ৩০টি। ঘঅঞচ প্রকল্পের আওতায় সরিষাসহ ৪৯ টি বিভিন্ন ধরনের প্রদর্শনী রয়েছে। চলতি অর্থ বছরে ন্যাশনাল এগ্রিকালচারাল টেকনোলজি প্রোগ্রাম ফেজ (এনটিপি-২) সিআইজি প্রশিনসহ নানা বিষয় পরিদর্শন করছেন কৃষি সম্প্রসারন অধিদপ্তরের ময়মনসিংহ আঞ্চলিক অফিস, জেলা কৃষি সম্প্রসারন অধিদপ্তর ও উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা কৃষিবিদ মোঃ নাজমূল হাছান ও সহকারি কৃষি সম্প্রসারন কর্মকর্তা গোলাম মোস্তুফা।

কৃষকরা জানান, সনাতন পদ্ধতির চেয়ে আধুনিক পদ্ধতি ব্যবহার লাভ জনক। আধুনিক পদ্ধতি ব্যবহারে বোরো ধানের বীজতলাসহ বিভিন্ন চাষাবাদে শ্রম, সময় আর ব্যয় কম হয়। উৎপাদন হয় বেশি। এ জন্য আধুনিক পদ্ধতি ব্যবহারে ঝোঁকে পড়ছেন কৃষকরা। এদিকে সারের চাহিদা মেটাতে কেচো দিয়ে ভার্মিং কম্পোষ্ট সার তৈরির প্রদর্শনীসহ নানা বিষয় পরামর্শ পাচ্ছেন। এ ব্যাপারে কথা হয় উপজেলা কৃষি অধিদপ্তরের উপ-সহকারি আমজাদ হোসেনের সাথে।

তিনি বলেন, কেচো দিয়ে অল্পপ খরচে তৈরি হয় সার। এতে লাভ বেশি। এ জন্য কৃষকরা প্রদর্শনীর মাধ্যমে এ প্রযুক্তি সম্পর্কে জানতে পারছেন। এতে আর্থিকভাবে লাভবান হচ্ছেন তারা। উপজেলা সহকারি কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা গোলাম মোস্তুফা জানান, দ্রুতই বদলে যাচ্ছে কৃষির চিত্র। উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের মাধ্যমে প্রশিণ আর সার্বিক সহায়তা দেয়া হচ্ছে। এতে চাষাবাদে সনাতন পদ্ধতি থেকে সরে ঝোঁকে পড়ছে আধুনিক পদ্ধতিতে।

ফলে সাশ্রয় হচ্ছে সময় আর শ্রম। ফলন হচ্ছে বেশি। এতে আর্থিকভাবে ব্যাপক পরিবর্তন আসছে কৃষকদের। কৃষকেরা এবার বোরো ধানের বীজতলা করেছে আধুনিক পদ্ধতিতে। আলোর ফাঁদ দিয়ে সনাক্ত করছেন  ক্ষেতের পোকা মাকর। ব্যবহার হচ্ছে শেড পদ্ধতি। কৃষি অফিসের অতন্ত্র জরিপ কার্যক্রমের অওতায় আনা হচ্ছে পিছিয়ে পড়া কৃষকদের।

ক্রমেই জনপ্রিয় হচ্ছে ডাম সিডারের ব্যবহার। গম ও আলুসহ অন্যান্য ক্ষেতে ইদুর দমনে নেয়া হচ্ছে বিশেষ ব্যবস্থা। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের সার্বিক পর্যবেণ আর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণে বাড়ছে উৎপাদনের মাত্রা। এবার আবহাওয়া অনুকুলে থাকলে কৃষকেরা বোরো চাষাবাদে বাম্পার ফলন পাবে আশা করছেন এই কর্মকর্তা।

কৃষি উৎপাদনে আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারসহ নানা দিক তুলে ধরে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোঃ নাজমূল হাছান বলেন, আধুনিক প্রযুক্তির সুফল পেয়ে কৃষকরা আধুনিক প্রযুক্তির দিকে ঝোঁকে পড়ছেন।

তিনি আরো বলেন, আবহাওয়া অনুকুলে থাকলে বোরো ও শীতকালীক সবজি চাষাবাদে গত বছরের তুলনায় অনেক বেশি উৎপাদন হবে। আধুনিক পদ্ধতি ব্যবহারে আরো গতিশীল হয়ে ওঠবে কৃষকরা। ফলনে ঘটবে কৃষির বিপ্লব। এমনটাই প্রত্যাশা করছেন স্থানীয় কৃষক, কৃষি কর্মকর্তা ও সচেতন মানুষরা।






Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked as *

*