বাংলাদেশ অনলাইন নিউজ পোর্টাল এসোসিয়েশন এ তালিকাভুক্ত আইডি নং – ৪২৯ ............................ দেশ ও জাতীর কল্যাণে সংবাদ ও সাংবাদিকতা!! আপনি কি সাংবাদিক হয়ে দেশ ও জাতীর কল্যাণে কাজ করতে চান তা হলে যোগাযোগ করুন ০১৭২৬৩০৪০৯২
প্রচ্ছদ

থেমে নেই বালী সন্ত্রাশ তারাকান্দি- ভূয়াপুর মহাসড়কটি হুমকির মুখে পতিত হচ্ছে

সরিষাবাড়ী (জামালপুর)প্রতিনিধিঃ জামালপুরের সরিষাবাড়ী উপজেলার মধ্য দিয়ে বহমান যমুনা ও ঝিনাই নদীতে থেমে নেই বালী খেকো সন্ত্রাশীদের তান্ডব। নিয়ম নীতির তোয়াক্কা না করে অপরিকল্পিত ভাবে বালী উত্তোলন করে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে একটি বালী খেকো সন্ত্রাশী চক্র। যার ফলে তারাকান্দি- ভূয়াপুর মহাসড়কটি হুমকির মুখে পতিত হচ্ছে। ভেস্তে যাওয়ার আশঙ্খায় পানি উন্নয়ন বোর্ডের কোটি টাকায় নির্মিত বাধসহ বিভিন্ন গুরুত্ব পুর্ণ স্থাপনা। অপরদিকে এ বালী উত্তোলনকে কেন্দ্র করে আদিপত্য বিস্তার ও প্রতিবাদ করায় সংঘর্ষে জড়িয়ে হত্যা-মামলা- বাড়ি ঘরে অগ্নিসংযোগ ও লাশ নিয়ে আন্দোলনের মতো ঘটনাও ঘটে চলেছে তবুও থেমে নেই এ বালী সন্ত্রাশ।

খোজ নিয়ে জানা যায়, উপজেলার সাতপোয়া ,কামরাবাদ ,পোগলদিঘা  আওনা, পিংনা,ইউনিয়নের যমুনা নদী ও ঝিনাই নদী থেকে প্রভাবশালী একটি সিন্ডিকেট অবৈধ ভাবে বালু উত্তোলন করছে। নদীর তলদেশের ভূমির কথিত মালিকানা দেখিয়ে তাদের নিকট থেকে নাম মাত্র অর্থে অথবা পেশি শক্তির বিনিময়ে বালু উত্তোলন করে বিপুল পরিমানের অর্থ হাতিয়ে নিচ্ছে। বালু উত্তালনের ফলে নদীর তীর, ফসলী জমি, বাসা-বাড়ি ভেঙ্গে যাচ্ছে। ভাঙ্গনের হুমকির মুখে পড়েছে গুরুত্বপূর্ণ সড়ক,ব্রিজ, হাটবাজার, মসজিদ, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। উপজেলার সাতপোয়া ইউনিয়নের শিশুয়া-বাঘমারা ব্রিজ হতে কামরাবাদ ইউনিয়নের শুয়াকৈর ব্রিজ পর্যন্ত ঝিনাই নদী থেকে ৪/৫টি স্থানে ট্রাক্টর , বাংলা ড্রেজার মেশিন দিয়ে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে। এতে করে সাতপোয়া ইউনিয়নেরে শিশুয়া-বাঘমারা ব্রিজ হতে শুয়াকৈর ব্রিজ পর্যন্ত সরকার বেড়ি বাঁধ নির্মাণ করছে! তার পাশেই স্থাপন করা হয়েছে বালু তোলার ড্রেজার মেশিন হেলাঞ্চবাড়ী,সোনাকান্দর,শুয়াকৈর  এলাকার বাড়ীঘর, রাস্তাঘাট,ব্রিজ, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, কয়েকটি মসজিদসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ভাঙ্গনের হুমকীর মুখে পড়েছে। যেখানে শিশুয়া-বাঘমারা ব্রিজ হতে শুয়াকৈর ব্রিজ পর্যন্ত সরকার বেড়ি বাঁধ নির্মাণ করছে! তার পাশেই স্থাপন করা হয়েছে বালু তোলার ড্রেজার মেশিন। এ ছাড়াও পোগলদিঘা, ডোয়াইল, ভাটারা, পিংনা, আওনা ইউপির ঝিনাই নদীর  পঞ্চাশি, কাশিনাথপুর, কাবারিয়াবাড়ী মোঃ ইয়াছিন আলীর বাড়ীভিটা, গোরস্থান, কাবারিয়াবাড়ী বাজার ঝিনাই নদীতে প্রায় বিলীন হওয়ার পথে রয়েছে।

এ ছাড়া বিস্তীর্ন এলাকাসহ যমুনা নদীর জগন্নাথগঞ্জঘাটের পশ্চিমে বেশ কয়েকটি স্থানে ড্রেজার মেশিন দিয়ে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে। ফলে নদীর পাড় ভেঙ্গে যাচ্ছে। হুমকীর মুখে পড়েছে এলাকা গুলো। অবৈধ ভাবে বালু উত্তোলনকারীর অনেকেই প্রভাবশালী বিধায় প্রকাশ্যে কেউই মুখ খুলতে সাহস পাননা বলে ভূক্তভোগীরা জানান। রাস্তার পাশে আবাদী জমি নামমাত্র মূল্যে ভাড়া নিয়ে বালু ভরাট করে কতিপয় ব্যবসায়ী বালু বিক্রয় এবং পরিবহনের জন্য ট্রাক, ট্রাক্টর ব্যবহার করায় রাস্তাগুলো ভেঙ্গে যাতায়াত ব্যবস্থা হুমকীর মুখে পড়েছে। এমনকি এসব যানবাহনগুলো বেপরোয়াভাবে চলাচল করায় এলাকার সড়ক দূর্ঘটনাও বেড়েছে। ড্রেজার মেশিন দিয়ে বালু পাইপের মাধ্যমে সরবরাহ করতে গিয়ে প্রধান সড়কের অনেক স্থানে ভেদ করা  হয়েছে। এতে করেও সড়কে ঐ স্থানে ডেভে গিয়ে দূর্ঘটনা যে কোন ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে বলে এলাকাবাসী জানান। এখানে উল্লেখ্য যে, ছবিতে দৃশ্যমান ড্্েরজার দুটি ও সরাসরি ট্রাকে বালু ভর্তির দৃশ্য ৪ নং আওনা ইউপির ৯নং ওয়ার্ডের কুমারপাড়া  গ্রামের তারাকান্দি ভুয়াপুর পাকা রাস্তা হতে ১০০ গজ পশ্চিমে । যে খানে প্রতি বৎসর বন্যার সময় বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর প্রকৌশলী বিভাগের সদস্যগন ও পানি উন্নয়ন বোর্ড,  কর্তৃক যমুনা নদীর ভাঙ্গন রক্ষা কাজে সর্বদা নিয়োজিত  থাকেন । ওই স্থানে ড্রেজার দিয়ে বালু উত্তোলনের ফলে শ্রোতের গতি ক্রমেই তীর  ঘেসে আসতে শুরু করেছে। এ ব্যাপারে ৫নং পিংনা ইউপির কাওয়ামারা গ্রামের  বীর মুক্তিযোদ্ধা হাছান আলী, আমিনুল ইসলাম , নুরুল ইসলাম ,নূরু,সাইফুল, আয়ুব আলী, কদ্দুছ ,ছোলেমান ,রস্তম আলী , জানান ,যমুনা নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় শ্রোতের গতি তীর ঘেষে আসায় সবচেয়ে বেশি ভয়াবহ কাওয়ামারা দয়ের পশ্চিমে বেরী বাধঁটি ভেংগে যাওয়ার সমুহ সম্ভাবনা রয়েছে । যে কোন মহুর্তে আবার নদী ভাঙ্গনে তারাকান্দি- ভুয়াপুর পাকা রাস্তা সহ পানি উন্নয়ন বোর্ড কর্তৃক  নদী ভাঙ্গন  রক্ষা কর্র্যক্রম নদী গর্ভে বিলীন হওয়ার  উপক্রম হয়ে পড়েছে।এ ছাড়াও নদীর পূর্ব পাড়ের তীর ঘেষে  জগন্নাথগঞ্জঘাট হতে  ৫নং পিংনা ইউপির কাওয়ামারা পর্যন্ত বেরী বাঁধটি বালি বাহিত ট্রাক্টর চলাচল করে রাস্তার বিভিন্ন স্থানে বিরাট খাদের সৃষ্টি করেছে ।  বর্তমানে তারাকান্দি ভুয়াপুর পাকা রাস্তাটি হুমকির মুখে। আগামি বর্ষায়  ওই এলাকা ভয়াবহ পরিস্থিতি সৃষ্টি হতে পারে বলে অভিজ্ঞ মহল মনে করেন। ইতি পূর্বে পত্রÑ পত্রিকায় প্রকাশিত সংবাদের ভিত্তিতে উপজেলা  প্রশাসনের হ্স্তক্ষেপে কিছুদিন বন্ধ থাকলেও অদৃশ্য কারনে পূনরায় ব্যাপক ভাবে জমজমাট ব্যবসা শুরু করেছে। এখানে উল্লেখ্য যে,  বালূ উত্তোলনকে কেন্দ্র করে বিরোধে ৫নং পিংনা ইউপিতে  দুইজন খুন হয়েছে । পরবর্তিতে সেই হত্যাকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন আন্দোলন, রাস্তা অবরোধ, পুলিশ ও জনতার সংঘর্ষ গুলি টিয়ারশেল নিক্ষেপ, প্রায় অর্ধশতাধিক বাড়িতে অগ্নিসংযোগসহ বিভিন্ন অস্থিতিশীল পরিবেশের সৃষ্টি হচ্ছে। তবুও বালুর ব্যাবসা জমজমাট ভাবে চলছে।  দেখার ও বলার যেন কেও নেই ।

এ ব্যাপারে  জরুরী ভিত্তিতে  সংশ্লিষ্ঠ কর্তৃপক্ষের আশু হ¯তক্ষেপ এলাকাবাসীর একান্ত কাম্য।






Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked as *

*