বাংলাদেশ অনলাইন নিউজ পোর্টাল এসোসিয়েশন এ তালিকাভুক্ত আইডি নং – ৪২৯ ............................ দেশ ও জাতীর কল্যাণে সংবাদ ও সাংবাদিকতা!! আপনি কি সাংবাদিক হয়ে দেশ ও জাতীর কল্যাণে কাজ করতে চান তা হলে যোগাযোগ করুন ০১৭২৬৩০৪০৯২
প্রচ্ছদ

জামালপুরে পেপার মিলের বর্জ্য বিষে খালের মৃত্যু

নিজস্ব প্রতিনিধি:পানি বিষাক্ত হয়ে ব্যবহারে অনুপযোগী হয়ে গেছে কয়েক বছর আগেই। ব্যবহার বন্ধ হয়ে গেছে খালের পানি দুই পাশের ফসলের সেচ কাজে। নষ্ট হয়েগেছে প্রাকৃতিক ভাবে উৎপাদিত মাছের উৎস্ব।

কর্মহীন বেকার হয়ে পড়েছেন কয়েকশ জেলে পরিবার, যারা এই খালের মাছ ধরে জীবন জীবিকা নির্বাহ করত। বর্তমানে মিলের বর্জ্যে ভরাট হয়ে মরে গেছে জামালপুরের ঐতিহ্যবাহী বগাখালি খাল। আজ শুধু অন্তঃসারশূণ্য অস্তিত্বটুকু নিয়ে অযতœ অবহেলার চরম স্বাক্ষ্য বহন করছে মানব কল্যাণে সৃষ্ট এই খালটি।

জানা যায়, জামালপুর শেখেরভিটা হতে সদর উপজেলার কেন্দুয়া স্ল্যুইস গেট হয়ে বাউশি জামিরা দিয়ে ব্রহ্মপুত্রে মিশে যাওয়া স্বচ্ছ জলধার, বগাখালি খালটি বহু পুরাতন। এটি জেলার দক্ষিণাঞ্চলের সুজলা সুফলা শষ্য শ্যামলা ধারক বাহক হিসেবে পরিচিত। আশির দশকে তৎকালিণ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান এ খালটির সংস্কার ও সম্প্রসারণ করেছিলেন। সেই থেকে খালটি ব্যবহার মাত্রা ব্যাপকতা পায়। খালের দুই পাশে হাজার একর জমির সেচ কাজে ব্যবহার হতো খালের পানি। রাখাল তার গরু বাছুর নাওয়ানো ধোয়ানোর কাজটিও সেরে নিত এই খালেই। খালে প্রাকৃতিকভাবে উৎপাদিত হতো মিঠা পানির মাছের বোয়াল, মৃগেল, শিং মাগুর, কই, শৈল ইত্যাদি।

এলাকার চাহিদা মিটিয়ে এসব মাছ বিক্রি হতো অন্যত্র। শত শত জেলে পরিবার এ খালের মাছ ধরে বিক্রি করে জীবন জীবিকা নির্বাহ করতেন। কিন্ত আজ খালের অতীত ইতিহাস সবই স্মৃতি। কৃত্রিমত্বার বিষাক্ত কালো থাবায় ধ্বংস হয়েগেছে প্রকৃতির এই আশির্বাদ।

বুধবার, ঐতিহ্যবাহী এ খালটির অতীত ও বর্তমান অবস্থা জানতে সরেজমিন গেলে, পৌরসভার বেলটিয়া খুপি বাড়ীর কৃষক গণি মিয়া মুকুল মাষ্টারসহ আরও বেশ কয়েকজন ভুক্তভোগী কৃষক এবং এলাকাবাসী জানান, যেদিন থেকে এই এলাকায় ম্যাপ পেপার মিল চালু হয়েছে সেদিন থেকেই মিলের আশ পাশের কৃষকের ও খালটির দুর্দিন শুরু হয়েছে। মিলের অপরিকল্পিত পদ্ধতিতে কেমিক্যালয্্ুক্ত বিষাক্ত পানি ও বর্জ্য নিষ্কাশনের ফলে মিল এলাকার কয়েক একর জমি ফসল উৎপাদনে অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। জমি চাষ করতে গেলে হালের সাথে কাগজ, পলিথিন ও প্লাস্টিক উঠে আসে। হাতে ঘা হয় বলে শ্রমিকরা ক্ষেতে কাজ করতে চায় না। মিল কর্তৃপক্ষকে অনেকবার অনুরোধ করার পর, তারা কিছুটা অংশ ড্রেন পাকা করে দিলেও বৃহতাংশ রয়েগেছে খোলা ও কাঁচা। মিলের অপরিকল্পি বর্জ্য ও নিষ্কাশন ব্যবস্থাপনার কারণে আমাদের বগাখালি খালটি আজ ধ্বংস হয়েগেছে। দূষিত পানির দুর্গন্ধে খালের উপরে বসবাস করা মানুষের জীবন নাভিশ^াস হয়ে উঠেছে।

অথচ এক সময় খালের দুই পাশে হাজার একর জমির সেচ কাজে ব্যবহার হতো খালটি। রাখাল তার গরু বাছুর নাওয়ানো ধোয়ানোর কাজটি সেরে নিত এই খালেই। খালে প্রাকৃতিকভাবে উৎপাদিত সুস্বাদু মিঠা পানির মাছের এলাকার চাহিদা মিটিয়ে বিক্রি হতো অন্যত্র। শত শত জেলে পরিবার এ খালের মাছ ধরে বিক্রি করে জীবন জীবিকা নির্বাহ করতেন।

কিন্ত আজ খালের অতীত ইতিহাস সবই স্মৃতি। কৃত্রিমত্বার বিষাক্ত কালো থাবায় ধ্বংস হয়েগেছে প্রকৃতির এই আশির্বাদ।

বেলটিয়া পুলিশ লাইন এলাকায় বসবাসরত একজন পুলিশের হাবিলদার (অবঃ) জানান, মিলের বর্জ্যরে কারণে শুধু খালের পানি আর আবাদী জমিই নয়, বায়ূ দূষণও হচ্ছে। মিল থেকে নির্গত ছাঁই বাতাসের সাথে মিশে শ^াস প্রশ^াসের মাধ্যমে আমাদের দেহে প্রবেশ করছে। ঘরের বাইরে বা ছাদে কাপড় চোপড় শুকাতে দিলে ছাঁয় উড়ে এসে কাপড় ময়লা হয়ে যায়।

খালের উপর একজন দোকানদার আব্দুল হক বলেন, খাল ও মিল দুইটিই মানুষের জন্য। মানুষের কল্যাণে সৃষ্ট কোনো প্রতিষ্ঠান যাতে মানুষের ক্ষতির কারণ না হয়, সেটা দেখার দায়িত্ব প্রতিষ্ঠাতাদের।

এ ব্যাপারে জামালপুর পৌরসভার ৯নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর সুরুজ মিয়া বলেন, অপদখল আর অপব্যবহারের ফলে বগাখালি খালটি ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে। এর জন্য দখলদারদের পাশা পাশি পেপার মিল কর্তৃপক্ষ অনেকটা দায়ি। তাদের অপরিকল্পিত নিষ্কাশন ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনার দরুন খালটির ভাটির অংশ ভরাট হয়ে ব্যবহারে অনুপযোগী হয়ে পরেছে। আমরা জামালপুর পৌরসভার পক্ষ থেকে মিল কর্তৃপক্ষকে নোটিসও করেছি। কিন্তু তারা এখনও কোনো ইতিবাচক উদ্যোগ গ্রহণ করেননি। তবে খালটিকে রক্ষায় তারা উদ্যোগ নিবেন, বলেও জানান তিনি।

এ ব্যাপারে জামালপুর ম্যাপ পেপার মিলস বোর্ড লিঃ এর প্রসাশনিক কর্মকর্তার আব্দুর রাজ্জাক বলেন, ইতিমধ্যে আমরা পরিশোধিত উপায়ে বর্জ্য শোধণাগার তৈরীর সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছি। খুব শিঘ্রই এর বাস্তবায়ণ হবে। আমাদের মিলের পানি আমরা পরিশোধন করে মিলের কাজেই ব্যবহার করব। মিলের বর্জ্য আর বাইরে যাবে না, বলেও জানিয়েছেন তিনি।

এলাকাবাসী জানান, মিল কর্তৃপক্ষের এমন আশ্বাস নতুন কিছু নয়। তারা বার বার এমন কথায় বলে।






Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked as *

*