বাংলাদেশ অনলাইন নিউজ পোর্টাল এসোসিয়েশন এ তালিকাভুক্ত আইডি নং – ৪২৯ ............................ দেশ ও জাতীর কল্যাণে সংবাদ ও সাংবাদিকতা!! আপনি কি সাংবাদিক হয়ে দেশ ও জাতীর কল্যাণে কাজ করতে চান তা হলে যোগাযোগ করুন ০১৭২৬৩০৪০৯২
প্রচ্ছদ

ফেনীতে দুই বছর ধরে সমাজচ্যুত ৩ পরিবার

জাহিদ ইকবাল শাকিল, ফেনী প্রতিনিধিঃ 
ওরা সবাই সমাজচ্যুত। এদের অধিকাংশ নারী ও শিশু। আছে বুদ্ধিপ্রতিবন্ধীও। কিন্তু সমাজপতিদের কড়া নির্দেশ কেউ ওদের সঙ্গে উঠাবসা করতে পারে না। এমনকি কথাও বলা নিষেধ। ধর্মীয় কোনো অনুষ্ঠানেও যেতে মানা। সমাজপতিদের এমন সিদ্ধান্তে ফেনীর ছাগলনাইয়া উপজেলার উত্তর যশপুর গ্রামের তিনটি পরিবারকে দুই বছর ধরে মানবেতর জীবনযাপন করতে হচ্ছে।
 উত্তর যশপুর গ্রামে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, সমাজচ্যুত তিনটি পরিবারের মধ্যে একজন বিবি হাওয়ার পরিবার। আমির হোসেন ফেলু মিয়ার মেয়ে বিবি হাওয়া। পিতার আর কোনো সন্তান না থাকায় তিনি পিতার বাড়িতে স্বামী নিয়ে থাকেন। তিন পরিবারের বসতভিটা গ্রামের তিন স্থানে। তাদের বাড়ির মোট জমির পরিমাণ ১০ শতক। এ ছাড়া আর কোনো সম্পদও নেই তাদের। কেউ দিনমজুর, কেউ ট্রাক্টর চালিয়ে সংসার চালান।
দু’বছর আগে বিবি হাওয়ার ছেলে মনছুর, বাড়ির একটি অংশ ভাগ করে দেওয়ার জন্য চাপ সৃষ্টি করে। ওই জমির রেজিস্ট্রি করে দিতে সালিশ আহ্বান করেন তিনি। সমাজপতিরা সালিশ করে রেজিস্ট্রি করে দেওয়ার জন্য বিবি হাওয়াকে নির্দেশ দেন। কিন্তু তিনি রেজিস্ট্রি করে দেবেন না বলে সমাজাতিদের জানিয়ে দেন। এতেই ক্ষিপ্ত হন সমাজপতিরা। ওই নির্দেশ না মানা পর্যন্ত তাদের তিন পরিবার বিবি আয়শা, তার মেয়ে বিবি হাওয়া ও ছেলে হেলাল উদ্দিনের পরিবারকে সমাজচ্যুত করা নির্দেশ দেওয়া হয়। সালিশে উপস্থিত ছিলেন ওই গ্রামের রফিকুল ইসলাম, নজরুল ইসলাম, নুরুল আলম, ফখরুল ইসলামসহ ২০-২৫ জন। তাদের নির্দেশে গ্রামের লোকজন বিবি হাওয়া, হেলাল উদ্দিনসহ তিন পরিবারের সঙ্গে উঠাবসা বন্ধ করে দেয়। এরপর ঘটে অন্য ঘটনা। স্থানীয় উত্তর যশপুর গ্রামের মাতব্বররা হেলাল উদ্দিনের জমির ওপর দিয়ে একটি রাস্তা তৈরির আদেশ দেন। গত বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে তাদের নির্দেশমতো স্থানীয়রা তাদের বসতবাড়ির গাছপালা কেটে রাতারাতি রাস্তা তৈরি করে। হেলাল উদ্দিন, বিবি হাওয়াসহ তাদের পরিবারগুলো বাধা দিলে সমাজপতিদের নির্দেশে রাহেলা আক্তার, বিবি হাওয়া ও কলেজ পড়ুয়া মেয়ে সুলতানা ইয়াছমিন পিয়াকে মারধর করা হয়। তাদের বিদ্যুতের খুঁটির সঙ্গে বেঁধে রাখা হয়। সালিশদার নজরুল ইসলাম ও রফিকুল ইসলাম বলেন, সমাজের নির্দেশ না মেনে তারাই সমাজ থেকে সরে গেছেন। ইউএনও শাহিদা ফতেমা চৌধুরী বলেন, এ বিষয়ে কিছুই জানেন না তিনি। অবগত হয়ে ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন বলে জানিয়েছেন।





Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked as *

*