বাংলাদেশ অনলাইন নিউজ পোর্টাল এসোসিয়েশন এ তালিকাভুক্ত আইডি নং – ৪২৯ ............................ দেশ ও জাতীর কল্যাণে সংবাদ ও সাংবাদিকতা!! আপনি কি সাংবাদিক হয়ে দেশ ও জাতীর কল্যাণে কাজ করতে চান তা হলে যোগাযোগ করুন ০১৭২৬৩০৪০৯২
প্রচ্ছদ

ইসলামপুরে অবৈধ ভাবে বালু উত্তোলনের মহাউৎসব

ইয়ামিন মিয়া নিউজ ডেস্ক:জামালপুরের ইসলামপুরের যমুনার গুঠাইল, মোরাদাবাদ ও ব্রক্ষপুত্র নদের সদ্য নির্মিত ব্রীজের নীচ থেকে দীর্ঘদিন ধরে অবৈধ ভাবে বালু উত্তোলনের মহাউৎসব চলছে।

জানা যায়,গুঠাইল এলাকার চিনাডুলী ইউনিয়নের সাবেক ইউপি সদস্য শাহজাহান কবির নিদেনু,আশরাফ আলীসহ একটি বালু দস্যুচক্র গুঠাইল যমুনা নদী থেকে বলগ্রেড মেশিনের সাহায্যে অবৈধভাবে খনিজ সম্পদ বালু লুট করে জমা করে বিক্রি করছে। একইভাবে পাথর্শী ইউনিয়নের মোরাদাবাদ ঘাট এলাকার কয়েকটি পয়েন্টে স্থানীয় একটি বালু দস্যু সিন্ডিকেট যমুনা নদী থেকে প্রায় কোটি টাকার বালু উত্তোলন করে দেদারছে বিক্রি করছে। 

অন্যদিকে ইসলামপুর পূর্বা ল্যের ব্রহ্মপুত্র নদের ফকিরপাড়া পাইলিংঘাট সদ্য নির্মিত ব্রীজের নীচ থেকেও বেকুপ মেশিনের সাহায্যে অবৈধভাবে বালু  উত্তোলনের মহোৎসব চলছে। 

জানা গেছে,সুজন পালসহ স্থানীয় একটি বালু দস্যু চক্র ব্রহ্মপুত্র নদের তলদেশ জেগে উঠা বালু মহল থেকে সরকারি অনুমতি ছাড়াই অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করে বিক্রি করে আসছে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে,সরকারি নিয়মনীতির কোন তোয়াক্কা না করে বালু ব্যাবসায়ী সিন্ডিকেটেরা অনুমতি ছাড়াই প্রশাসনকে ম্যানেজ সিস্টেমে অবৈধভাবে বালু তথা খনিজ সম্পদ লুটপাট চলছে ইসলামপুরে। এতে সরকার রাজস্ব থেকে বি ত হচ্ছে। হুমকীর মুখে পড়েছে যমুনার বাম তীর সংরক্ষণ বাঁধ,
রাস্তা,ফসলি জমি ও বসতি এলাকা।

পাশে বালু উত্তোলন করে জমা করে দেদারছে বিক্রি করছে বালু দস্যুরা। ফলে পরিবেশ হুমকির মুখে পড়েছে ওইসব এলাকা।

স্থানীয়দের অভিযোগ,নদী ভাঙ্গনের হাত থেকে যমুনা তীরবর্তী অ লের দরিদ্র জনগোষ্ঠিকে রক্ষাকল্পে সরকার যমুনা বাম তীর সংরক্ষণ প্রকল্প বাস্তবায়ন করেছে। বৃহত্তর জনগোষ্ঠির সার্থকে জলাঞ্জলি দিয়ে বালু দস্যুরা স্থানীয় প্রশাসনকে ম্যানেজ করে অবাধে বিভিন্ন উপায়ে বালি উত্তোলন করছে। ফলে এ ব্যাপারে নীরব ভূমিকা পালন করছে স্থানীয় প্রশাসন।

স্থানীয়দের আরও অভিযোগ,উপজেলা প্রশাসন মাঝে মধ্যে অভিযান চালিয়ে অবৈধ বালি উত্তোলন বন্ধ ও জরিমানা করলেও পরক্ষণেই রহস্য জনক কারণে আবারও বালি উত্তোলন শুরু হয়ে যায়। ফলে স্থানীয় সচেতন মহল বলছে  স্থানীয় প্রশাসনের কাছে বারবার আবেদন করেও বালি উত্তোলন বন্ধ হচ্ছে না।

ফলে এব্যাপারে এলাকাবাসীর সনচেতন মহল জেলা প্রশাসকের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।জানা যায়,যমুনা তীর সংরক্ষণ প্রকল্প বাস্তবায়নের ফলে যমুনা নদী তীরবর্তী অ লের মানুষের প্রায় অর্ধশতাধিক বছরের কান্নার অবসান হয়েছে। হাসি ফুটেছে নদী ভাঙ্গনে ঘরবাড়ি,ফসলী জমি হারানো মানুষগুলোর মূখে।

যে যমুনা এক সময় নিজ দেশেও পরবাসি করেছে তার তীরে বসবাস করা বহু পরিবারকে। সরকারের মহতি উদ্যোগের কল্যাণে ভাঙ্গন আতঙ্ক ভুলতে শুরুকরা যমুনা পাড়ের মানুষগুলোর মধ্যে আবারও শুরু হয়েছে সব হারানোর ভয়।

এক সময় ভাঙ্গনের ফলে সব হারিয়ে যাদের নিজ এলাকা ছেড়ে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন শহরে যাযাবর জীবনযাপন করতে হয়েছে তীর সংরক্ষণ প্রকল্প বাস্তবায়ন হবার ফলে তারাও আশায় বুক বাঁধছে নিজ জন্মভূমিতে ফিরে আসার স্বপ্ন। স্বপ্নের পথে বাঁধা হয়ে দাড়িয়েছে অবৈধ ভাবে বালি উত্তোলন করায়।

সচেতন এলাকাবাসী এ অবৈধ উত্তোলন করা বালুগুলি জব্দসহ বালু উত্তোলনকারীদের বিরুদ্ধে স্থায়ীভাবে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবী জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের নিকট।

এ ব্যাপারে জামালপুর জেলা প্রশাসক আহমেদ কবির এর সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন,বিষয়টি আমি জানি না, তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেব।






Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked as *

*